সর্বশেষ

আকাশ ছোয়া স্বপ্ন

আকাশ ছোয়া স্বপ্ন
যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারাই অন্যের পেটের যন্ত্রনা বোঝে। হ্যা, আমি এক গরিব ছেলের স্বপ্নের কথা বলব যে অভিশপ্ততাকে হার মানিয়ে স্বপ্ন দেখতে বদ্ধ পরিকর।
১০ বছর আগের কথা যখন মাথা ঠেকানোর মত ছিল না একটুখানি যায়গা।ছিল না মাথার উপর খরের চাল,বেড়ার ফাক দিয়েও বাতাস ফুরফুরিয়ে আসত না। কারন তারা এতটাই গরিব ছিল যে সামান্য ভিটা টুকুও ছিল না।যশোরের একটি প্রতন্ত গ্রাম ক্ষেত্রপালায় মুকুলের বাড়ি।দুই ভাইবোনের মধ্যে মুকুল আহম্মেদ বড়।তখন মাদরাসায় ৩য় শ্রেনীর ছাত্র।অত্র মাদরাসায় তার মত একজন মেধাবী ছাত্র পাওয়া রীতি মত কঠিন ব্যাপার। প্রতি বছর সর্বচ্চো নাম্বার নিয়ে মাদরাসা প্রথম হত মুকুল আহম্মেদ।কিন্তু অভাব তার পড়ালেখা থেকে বহুদূরে যেতে বলে।কিন্তু সে পড়ালেখা করতে চাই।অনেক দিন সে ক্লাস করতে পারত না।পেটের ধান্দায় অন্যের জমিতে কাজ করতে হত।সারাদিন কাজ করে রাতে মোমের আলোয় পড়তে বসত।কোনদিন খাবার জুটত কোনদিন খাবার জুঠত না। কিছুদিন বাদেই তার মাদরাসায় থাকা হলো না।ঢাকায় বড় কোন কাজের জন্য চলে যেতে হল তাকে।
ঢাকায় কাজের পাশাপাশি টুকটাক পড়ালেখা শুরু করল।পাশাপাশি ছোটখাট রেস্টুরেন্ট এ কাজ করত।এভাবে সেখানে ক্লাস ৫ পাস করে আবার গ্রামে ফিরে এল।এবার গ্রামের একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়” নারিকেল বাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি “হল।
ছোট থেকেই লেখালেখির প্রতি অন্য রকম আগ্রহ ছিল মুকুল আহম্মেদ এর।ডায়রির পাতা ভরে কবিতা,ছোট গল্প, উপন্যাস, নাটক লিখেছে সে। কিন্তু প্রতন্ত গ্রামে থেকে প্রকাশের কোন সু্যোগ হয়ে ওঠেনি মুকুলের।স্কুলে অধ্যায়নরত অবস্থায় কবিতা আবৃতি কিংবা মঞ্চ নাটিকে প্রথম স্থান দখল করে জিতে নিয়েছে ঝুড়ি ভরে পুরুষ্কার।
কিন্তু কিছুদিন বাদেই আবার ঢাকায় চলে গেল মুকুল ।। আবার সেই রেষ্টুরেন্টে কাজ করা।কিন্তু এবার সুযোগ পেল ছোট পর্দায় নাটক করার। ছোট খাট বিভিন্ন নাটকের স্ক্রিপ্ট ও লিখেছে মুকুল।
এবার মুকুলের স্বপ্নটা একটু অন্য রকম। সে নিজেই গরিবের পাশে দাড়ানোর জন্য খুলে ফেলল ” জে বি কে ফাউন্ডেশন হিউম্যান বিং ফর হিউওম্যান” নিজের অর্থায়ানো ছিন্নমুল শিশুদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা তার।পাশে প্রথমে কেও না থাকলেও তার কাছের কত জন বন্ধু মিলে তাদের প্রথম প্রোগ্রাম করে ক্ষেত্রপালা কওমি মাদরাসায়। সেখানে প্রায় ১০ টাকা মূল্যের পড়ালেখা সামুগ্রি দুস্থ অসহায় ছাত্রছাত্রীকে দেয়।
মুকুলের স্বপ্ন আকাশ ছোয়া। সব স্বপ্ন পূরন হোক এই পাগল গোরিব প্রেমিকের।
-পিয়াল হাসান স্বাধীন(তরুন  লেখক)
(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*