সর্বশেষ

বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে!

বাঘারপাড়ায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে

 

বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে – উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ একটি অপরিহার্য অংশ। বর্তমান সরকার যে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে জনগনের দৌড় গোড়ায় যাচ্ছে সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের ভুমিকা কি সেটা বোঝার জন্য আমাদের বই পড়ার দরকার লাগেনা। বিজ্ঞানের বড় আবিস্কার বিদ্যুৎ যা মানব জীবনের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল এই আশীর্বাদ যেন অভিশাপের মত মনে হচ্ছে বাঘারপাড়াবাসীর কাছে। যশোর জেলার পিছিয়ে পড়া একটি উপজেলার নাম হচ্ছে বাঘারপাড়া। যশোরের অন্যান্য উপজেলাতে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলেও বাঘারপাড়া কৃষি নির্ভর একটি উপজেলা। আর কৃষি মুলত ধান চাষ ভিত্তিক এই অঞ্চলের। আর ধান চাষের পুরো মৌসুম চলছে এখন। তাই কৃষকদের মুখে হাসি থাকার কথা। কিন্তু আসলেই কি হাসি আছে বাঘারপাড়ার কৃষকের মুখে?
প্রথম প্রভাত একটি অনুসন্ধান চালায় এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উপর। সেখানে বের হয়ে আসে ভয়াবহ চিত্র। আমরা কথা বলেছিলাম ধলগ্রাম ইউনিয়নের জাহিদ নাম করে এক কৃষকের সাথে। খুব আক্ষেপের সাথে তিনি আমাদের জানালেন, “কি যে বলব ভাই, আপনারা কিছু একটা করেন। অনেক কইছি (বলেছি) কিন্তু কাজ হয় না। সারাদিন দুই-তিন ঘন্টার বেশি কারেন্ট থাহেনা (থাকেনা)। ভুইতে (জমিতে) অনেক পানির দরকার, কিন্তু পানি দিতি (দিতে) পারতিছিনে (পারছিনা)। কারন কারেন্ট থাহেনা (থাকেনা) ভাই। এভাবে চললি (চললে) আমাদের মাথায় হাত দিয়া ছাড়া কোন গতি থাকপেনানে (থাকবেনা)”।
এবিষয়ে কথা হয় বাঘারপাড়ার আরেক কৃষক খায়রুল হোসেনের সাথে। তিনি যোগ করলেন বাড়তি অনেক কিছুই। তিনি আমাদের জানান, ভাই মাঠেই আমাদের ঘরবাড়ি, মাঠেই আয়। কিন্তু এই একমাসের বেশি হল কারেন্ট আধা ঘন্টাও থাহেনা (থাকেনা) নিয়মিতভাবে। মেশিন যে কয়বার বন্ধ করি আর জুড়ি (চালু) তার কোন ঠিক নেই। আমরা অফিসে ফোন করলি (করলে) উলটো গালাগালি দেয় অফিস থেহে (থেকে)। ঠিক মত নামাজ পড়তি (পড়তে) ও খাতি (খেতে) পারিনে (পারিনা)”।
আমরা যোযাযোগ করেছিলাম বাঘারপাড়া পল্লী বিদ্যুতের ডি,জি,এম জনাব আতিকুজ্জামান চৌধুরীর সাথে। তিনি জানান, আপনি হয়ত জানেন যে, এখন ঝড়ের সময়। ঝড় হলে অনেক সময় গাছপালা উপড়ে রাস্তার উপর পড়ে থাকে। সেক্ষেত্রে হয় লাইন ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিদ্যুৎ দিতে পারিনা। যেমন, পরশু বড় একটা ঝড় হয়ে গেল। আমরা সারারাত লাইন দিতে পারিনি এটা সত্য। তাছাড়া সামগ্রিকভাবে যেভাবে বলা হচ্ছে সেটা সত্য নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”
তাহলে আসল পরিস্থিতিটা কি? কৃষকরা কি শুধু শুধু অভিযোগ করছেন? নাকি বিদ্যুৎ অফিস বলতে হয় তাই দায়সারা ভাবেই বলে যাচ্ছে। উত্তরটা যাইহোক আসলে ক্ষতিটা কিন্তু কৃষকেরই হচ্ছে, আমাদের হচ্ছে, বাঘারপাড়ার হচ্ছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

One comment

  1. আই থিংক বিষয়টা সিরিয়স নেওয়া উচিৎ,, বাঘারপাড়াতে এই সমস্যা নতুন না,, সো উন্নতীর শিখরে পৌছিয়েও এটা আশা করিনা,,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*