সর্বশেষ

এবার উপদেষ্টা পরিষদেও চমকের আভাস!

এবার উপদেষ্টা পরিষদেও চমকের আভাস!

টানা তৃতীয়বারের মতো যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ, সেখানে নানা আঙ্গিকে রয়েছে চমক। নতুন মন্ত্রিসভায় দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি থাকছে নতুন মুখ। তাই নতুন মন্ত্রিসভায় পুরনোদের বেশির ভাগই থাকছেন না।

বর্তমান মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট মন্ত্রীদের প্রায় কারোর ঠাঁই হবে না নতুন মন্ত্রিসভায়। এমনকি মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের বাইরে মহাজোটের অন্য কোনো দলের কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি কে কোন দফতর পাচ্ছেন তাও জানান।

এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভায় যারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন তাদের শপথগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এদিকে এখনো ঘোষণা করা হইনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নাম। তবে জানা গেছে নতুন মন্ত্রিসভার মত উপদেষ্টা মণ্ডলিতেও থাকতে পারে বড় ধরনের চমক।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদ এত শক্তিশালী ছিল না। কেবল একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। যিনি রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৮ সালে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রী একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।

সেই উপদেষ্টা পরিষদে এইচটি ইমাম, ড. আলাউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ড. মশিউর রহমান, ড. গওহর রিজভী, তৌফিক এলাহিসহ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের তিনি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়ে আসেন। সেই সময় বিতর্ক উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল উপদেষ্টা পরিষদ প্যারালাল মন্ত্রিসভা কিনা। উপদেষ্টা পরিষদ মন্ত্রিদের চেয়েও ক্ষমতাবান ব্যক্তি কিনা।

দেখা গেছে, উপদেষ্টাদের অনেক সময় মন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকে অংশগ্রহণ নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে উপদেষ্টাদের ক্ষমতা সীমিত করা হলেও উপদেষ্টা পরিষদ একটি কার্যকর এবং ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেছে। ২০১৪ সালেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর উপদেষ্টা পরিষদের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। কেবলমাত্র অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী এবং আলাউদ্দীন আহমেদকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেয়া হয়। ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম অনেকটা সীমিত হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদেও একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যে সমস্ত উপদেষ্টাদের কার্যক্রম, ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি বা ফলপ্রসু হয়নি। তাদের বদলে নতুন উপদেষ্টা আনার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরই দেখা যাবে তার উপদেষ্টা পরিষদে কোন পরিবর্তন আনছেন কিনা। বা সেখানে কোন নতুন মুখ আসছে কিনা।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Research Publishing Academy in the UK
Research Publishing Academy in the UK