সর্বশেষ

সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্প কারখানা!

সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্প কারখানা!

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের আশপাশে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্প কারখানা রয়েছে। যার মধ্যে ২৪টি লাল; বাকিগুলো কমলা ও সবুজ শ্রেণিভুক্ত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। যা দেখার পর এ বিষয়ে রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে রুল শুনানির জন্য আগামী ৯ মে দিন ধার্য করেছেন।

এক রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বর্তমানে কতগুলো শিল্প কারখানা রয়েছে তার তালিকা দাখিলে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা ও সরেজিমনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবন সংলগ্ন ইসিএ এলাকায় সর্বমোট ১৯০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। বাগেরহাট জেলায় ৭৮, খুলনায় ৯২, সাতক্ষীরায় ২০টি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে বন্ধ।

২৪টি লাল শ্রেণিভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, রেড জোনে যে‍গুলো সেগুলো সার্বিকভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য রেড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে রুল শুনানির সময় বিশেষজ্ঞ মতামতের দরকার। তাহলে এগুলো বেরিয়ে আসবে কতটুকু ক্ষতিকর। যে পর্যন্ত এটা করা যাবে না, সে পর্যন্ত বলা যাবে না যে এটা বাস্তবে ক্ষতিকর।

এদিকে রিট আবেদনকারী আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিবেদন বলছে, সুন্দরবনের ১০ কিলোমটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্প কারখানা রয়েছে। এগুলো মাটি, পানি ও বায়ু দূষণকারী (লাল শ্রেণিভুক্ত) শিল্প কারখানা ২৪টি। এগুলো কোনোভাবেই সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারবে না। পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (এনভায়রনমেন্টাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া- ইসিএ) অর্ডিন্যান্স ১৯৯৯ অনুযায়ী প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার মধ্যে এ ধরনের শিল্প কারখানা থাকার সুযোগ নেই। এছাড়া বাকি যে শিল্প কারখানাগুলো আছে সেগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এর থেকেও বেশি। ফলে আদালত এই শিল্প কারখানাগুলো সরিয়ে ফেলার আদেশ দেবে কি দেবে না, সে ব্যাপারে ৯ মে পরবর্তী শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের আশেপাশে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা শিল্প কারখানার অন্যত্র সরিয়ে নিতে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম হাইকোর্টে ৪ এপ্রিল রিটটি দায়ের করেন। রিটে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) রেসপনডেন্ট (প্রতিপক্ষ) করা হয়।

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Research Publishing Academy in the UK
Research Publishing Academy in the UK